লার্নার্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স করুন ১০ মিনিটে (সহজ নিয়ম)

Apply Driving License Online : Fast & Easy Process




{getToc} $title={Table of Contents}


যানবাহন চালানোর আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence) অত্যন্ত জরুরি একটি নথি। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি সহজ, স্বচ্ছ এবং জনবান্ধব করা হয়েছে।

পূর্বে যেকোনো ধরনের লাইসেন্স বা RTO সংক্রান্ত কাজের জন্য দালাল বা এজেন্টের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। তবে বর্তমানে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রালয় (MoRTH)-এর ‘সারথি পরিবহন’ (Sarathi Parivahan) পোর্টালের মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই অত্যন্ত সহজে লার্নার্স এবং পরবর্তীতে পার্মানেন্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সঠিক নিয়মকানুন মেনে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রেখে অনলাইনে আবেদন করলে যেকোনো নাগরিক খুব সহজেই এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন।





১. লার্নার্স লাইসেন্স (Learner’s Licence) পাওয়ার অনলাইন প্রক্রিয়া


স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রথম ধাপ হলো লার্নার্স লাইসেন্স বা শিক্ষানবিস লাইসেন্স সংগ্রহ করা। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে অনলাইনেই এই আবেদন করা যায়:

  • পোর্টালে প্রবেশ ও রাজ্য নির্বাচন: প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকারের অফিশিয়াল সারথি পরিবহন পোর্টালের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সাইটটিতে ঢোকার পর সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা স্টেট সিলেক্ট করার অপশন আসবে, সেখান থেকে নিজ রাজ্য নির্বাচন করতে হবে।


  • আবেদন ফর্ম পূরণ: হোমপেজে থাকা “Learner’s Licence” ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে “Application for New Learner’s Licence” অপশনটি বেছে নিতে হবে। এরপর সামনে আসা আবেদনপত্রে প্রার্থীর নাম, অভিভাবকের নাম, জন্মতারিখ, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এবং যে ধরনের যানবাহনের জন্য লাইসেন্স চাচ্ছেন তা সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।


  • নথিপত্র আপলোড (Document Upload): ফর্ম পূরণের পর বয়স এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। সাধারণত আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, জন্ম শংসাপত্র বা স্কুল সার্টিফিকেট বয়স ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।


  • ফি প্রদান ও পেমেন্ট ভেরিফিকেশন: ডকুমেন্টস আপলোড করার পর নির্ধারিত সরকারি আবেদন ফি অনলাইনেই ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, নেট ব্যাংকিং বা ইউপিআই (UPI) এর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর রসিদটি সংগ্রহ করে রাখা আবশ্যক।


  • লার্নার্স টেস্ট ও স্লট বুকিং: ফি পরিশোধের পর অনলাইন লার্নার্স টেস্টের জন্য স্লট বুক করতে হয়। অনেক রাজ্যে বর্তমানে ঘরে বসেই মোবাইল বা ল্যাপটপের মাধ্যমে অনলাইন স্টল (STALL) টেস্ট দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। এই পরীক্ষায় মূলত ট্রাফিক সাইন, ট্রাফিক নিয়ম এবং সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত মৌলিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) থাকে।


  • লার্নার্স লাইসেন্স ডাউনলোড: অনলাইন পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে নোটিফিকেশন আসে এবং পোর্টাল থেকেই লার্নার্স লাইসেন্স প্রিন্ট বা ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। ভারতের মোটর ভেহিক্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, একটি লার্নার্স লাইসেন্সের মেয়াদ ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন বা ছয় মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকে।





২. স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স (Permanent Driving Licence)-এর আবেদন পদ্ধতি



লার্নার্স লাইসেন্স হাতে পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে স্থায়ী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যায় না। নিয়মানুযায়ী, লার্নার্স লাইসেন্স ইস্যু হওয়ার কমপক্ষে ৩০ দিন পর স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাওয়া যায়।


  • আবেদন শুরু: নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর আবার সারথি পরিবহন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর “Driving Licence” মেনু থেকে “New Driving Licence” অপশনটি নির্বাচন করতে হবে।

  • তথ্য প্রদান ও স্লট বুকিং: এই ধাপে লার্নার্স লাইসেন্স নম্বর এবং জন্মতারিখ ইনপুট দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। পূর্বের সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে এবং কিছু অতিরিক্ত তথ্য পূরণ করে সাবমিট করতে হয়। এরপর ড্রাইভিং টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের স্লট (Appointment Slot) বুক করতে হয়।


  • RTO অফিসে ড্রাইভিং টেস্ট: নির্ধারিত তারিখে সমস্ত মূল নথিপত্র (Original Documents), লার্নার্স লাইসেন্স, ফি জমার রসিদ এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপসহ সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরে (RTO) উপস্থিত হতে হবে। সেখানে মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টরের সামনে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির গাড়ি বা বাইক চালিয়ে ড্রাইভিং দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে।

  • চূড়ান্ত অনুমোদন: ড্রাইভিং টেস্টে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর RTO কতৃপক্ষ নথি ও বায়োমেট্রিক যাচাই করে। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্থায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট হয়ে আবেদনকারীর ঠিকানায় ডাকযোগে পৌঁছে যায় অথবা ডিজিটাল কপি পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করা যায়।




৩. অনলাইনে আবেদন করার কিছু জরুরি টিপস ও সতর্কতা



  • নথি সংরক্ষণ: অনলাইন আবেদন শুরু করার পর থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের Application Number, Fee Payment Receipt এবং Appointment Slip প্রিন্ট করে বা পিডিএফ ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো দরকারে বা RTO অফিসে এগুলো দেখাতে হয়।


  • সঠিক তথ্য প্রদান: ফর্মে নাম, বানান, জন্মতারিখ এবং আধার কার্ডের তথ্য হুবহু এক রাখা উচিত। সামান্য ভুলের কারণে আবেদন রিজেক্ট হতে পারে বা পরবর্তীতে সংশোধনের জন্য জটিলতা তৈরি হতে পারে।


  • স্ট্যাটাস চেক করা: আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো কারণে প্রসেস আটকে গেলে সারথি পোর্টারলের “Application Status” অপশনে গিয়ে বর্তমান অবস্থা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।


দালাল বা মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ঘরে বসে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কেউ নিজেই নিজের লার্নার্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজন শুধু সচেতনতা, সঠিক তথ্য এবং সামান্য ধৈর্য।






Sambad Das

আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং গ্র্যাজুয়েট এবং একজন টেক-কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন্স, অটো-ক্যাড এবং ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিংয়ের পাশাপাশি অ্যাডমিন, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল সেক্টরে আমার কয়েক বছরের কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। জটিল প্রযুক্তিগত বিষয়, শিক্ষা এবং কাজের খবর সহজ ও সাবলীল বাংলায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য।

Post a Comment

Previous Post Next Post