ফ্যামিলি ফ্লোটার ইনস্যুরেন্স: পুরো পরিবারের সেরা সুরক্ষা

Sambad Das
0
Family Floater Insurance: Best Protection for All







(toc) #title=(Table of Content)



পরিবারের জন্য সেরা ফ্যামিলি ফ্লোটার হেলথ ইনস্যুরেন্স নির্বাচন: কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই দেখবেন 

বর্তমান সময়ে চিকিৎসার খরচ দ্রুত বাড়ছে। হঠাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, অস্ত্রোপচার, দীর্ঘদিনের চিকিৎসা কিংবা গুরুতর অসুস্থতার কারণে একটি পরিবারের সঞ্চয়ের বড় অংশ খরচ হয়ে যেতে পারে। 

তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিমা থাকা এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আর্থিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অনেক পরিবার আলাদা আলাদা স্বাস্থ্যবিমা নেওয়ার পরিবর্তে ফ্যামিলি ফ্লোটার স্বাস্থ্যবিমা বেছে নেন। এই ধরনের ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট মোট সুরক্ষার পরিমাণ পরিবারের একাধিক সদস্য ভাগ করে ব্যবহার করতে পারেন।

তবে শুধু কম খরচের কিস্তি দেখে এমন বিমা নেওয়া উচিত নয়। প্রকৃত সুবিধা বোঝার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা দরকার।





স্বাস্থ্য বীমার প্রয়োজনীয়তা ও মেডিকেল ইনফ্লেশন 


বেড়ে চলা খরচ:


বর্তমান যুগে ইএমআই (EMI) এবং বিভিন্ন বিল মেটানোর পর সঞ্চয় খুবই কম থাকে। এর মধ্যে হঠাৎ কোনো মেডিকেল ইমার্জেন্সি বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা কয়েক বছরের জমানো সমস্ত সঞ্চয় এক নিমিষে শেষ করে দিতে পারে।


উচ্চ মেডিকেল ইনফ্লেশন:


বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে খরচের মূল্যবৃদ্ধির (Medical Inflation) হার বছরে প্রায় ১৪%, যা সাধারণ মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে প্রায় তিনগুণ বেশি।


ভবিষ্যতের খরচ:


এর সোজা অর্থ হলো, আজ যে চিকিৎসার জন্য ১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে, ৬-৭ বছর পর সেই একই চিকিৎসার জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা লাগতে পারে। তাই একটি ভালো স্বাস্থ্য বীমা কেনা শুধুমাত্র একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি পদক্ষেপ।





ফ্যামিলি ফ্লোটার স্বাস্থ্যবিমা কী? 


স্বাস্থ্য বীমা সাধারণত দুই ধরনের হয়:


একটি হলো ইন্ডিভিজুয়াল বা ব্যক্তিগত প্ল্যান (যা শুধু একজনকে সুরক্ষা দেয়) এবং অন্যটি হলো ফ্যামিলি ফ্লোটার প্ল্যান।


কাদের যুক্ত করা যায়:


ফ্যামিলি ফ্লোটার এমন একটি প্ল্যান যা একটিমাত্র কভারের অধীনে পুরো পরিবারকে সুরক্ষা দেয়। এতে আপনি স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতামাতা (Parents) এবং শ্বশুর-শাশুড়িকেও (In-laws) যুক্ত করতে পারবেন। তবে সাধারণত ভাই-বোনদের (Siblings) এর আওতায় কভার করা হয় না।





ফ্যামিলি ফ্লোটার কীভাবে কাজ করে? 

এই প্ল্যানে পরিবারের প্রতিটি সদস্য আলাদা আলাদা কভার পান না। বরং সম্পূর্ণ কভারটি পুরো পরিবারের জন্য একীভূত থাকে।


উদাহরণ: যদি আপনার পলিসির কভার ১৫ লক্ষ টাকার হয়, তবে এই ১৫ লক্ষ টাকা পরিবারের সবার জন্য বরাদ্দ। বছরের মাঝামাঝি যদি বাবার সার্জারির জন্য ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়, তবে পলিসির বাকি অংশ (১১ লক্ষ টাকা) পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের যেকোনো প্রয়োজনে অবশিষ্ট থাকবে।





সেরা প্ল্যান নির্বাচন ও পলিসির গুরুত্বপূর্ণ ফিচারসমূহ: 


ইউনিক ফ্যামিলি স্ট্রাকচার:


কিছু সেরা প্ল্যানে ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক (Adults) এবং আনলিমিটেড সন্তান (Unlimited Children) কভার করার সুবিধা থাকে, যা বাজারের অন্যান্য প্ল্যানের তুলনায় বেশ অনন্য।


অতিরিক্ত সুবিধা (Additional Benefits):


একটি ভালো ফ্যামিলি প্ল্যানে ওপিডি (OPD) কভার, ম্যাটারনিটি বেনিফিট (মাতৃত্বকালীন সুবিধা), কনজিউমেবলস কভার (Consumables Cover - চিকিৎসা সামগ্রীর খরচ) এবং আনলিমিটেড রিস্টোরেশন (Unlimited Restoration - কভার শেষ হলে পুনরায় রিচার্জ হওয়া)-এর মতো অত্যাধুনিক সুবিধা থাকা উচিত।


আপনার পরিবার বড় হলে বা ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে এই ধরণের ফিচারযুক্ত প্ল্যানগুলো আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো (Solid) অপশন হতে পারে।





ভারতের বর্তমান স্বাস্থ্য বীমার পরিসংখ্যান: 


বীমাহীন মানুষ:


নীতি আয়োগের (NITI Aayog) তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৩০% মানুষের কাছে এখনো পর্যন্ত কোনো ধরনের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই।


বীমার আওতাভুক্ত মানুষ:


বাকি ৭০% মানুষ কোনো না কোনোভাবে স্বাস্থ্য বীমার আওতাভুক্ত। এদের মধ্যে কেউ ব্যক্তিগতভাবে বীমা কিনেছেন, আবার অনেকেই সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প (যেমন: আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য সাথী ইত্যাদি)-এর মাধ্যমে কাভারেজ পাচ্ছেন।






সরকারি প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা 


নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা (Upper Limit):

'স্বাস্থ্য সাথী' বা 'আয়ুষ্মান ভারত'-এর মতো সরকারি স্কিমগুলোতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্লেম বা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়। কিন্তু চিকিৎসার খরচ যদি ২, ৩ বা ৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বসীমা ছাড়িয়ে যায়, তবে বাকি টাকা পকেট থেকে দিতে হয়।



হাসপাতালে বেড পাওয়ার সমস্যা:


সরকারি স্কিমের সুবিধা নেওয়ার জন্য হাসপাতালে নির্দিষ্ট কিছু বেড বরাদ্দ (Quota) থাকে। অনেক সময় চিকিৎসার প্রয়োজনে গিয়ে সেই বেড খালি পাওয়া যায় না, যার ফলে ভর্তি হতে সমস্যা হয়।




হেলথ ইন্স্যুরেন্স কেন করা বাধ্যতামূলক? 


দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ:


আমাদের দেশে অনেক মানুষ চিকিৎসার বিশাল খরচের ধাক্কা সামলাতে না পেরে মধ্যবিত্ত থেকে গরিব বা দরিদ্রে পরিণত হচ্ছেন।


বিপদের মুহূর্তে সহায়ক:


চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঘটিবাটি বা সম্পত্তি বিক্রি করতে হওয়ার মতো ঘটনা আমাদের চারপাশে প্রায়ই শোনা যায়। এমন ইমার্জেন্সি (Emergency) বা আপৎকালীন সময়ে হেলথ ইন্স্যুরেন্স ভীষণ কাজে লাগে।


সরকারি অনুদানের অভাব:


ভারতে জিডিপির (GDP) মাত্র ১ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবায় খরচ হয়, যা সারা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। তাই নিজের সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা অত্যন্ত জরুরি।





ফ্লোটার হেলথ ইনস্যুরেন্স কেনার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই দেখবেন


১. প্রথমেই পরিবারের সদস্যদের তালিকা তৈরি করুন


বিমা কেনার আগে ঠিক করুন কারা এই পরিকল্পনার আওতায় থাকবেন। সাধারণত স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল সন্তানদের নিয়ে পারিবারিক ভাসমান পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। বয়স্ক বাবা-মায়ের ক্ষেত্রে আলাদা পরিকল্পনা অনেক সময় বেশি কার্যকর হতে পারে। দেওয়া পুস্তিকাতেও বাবা-মায়ের জন্য পৃথক ভাসমান পরিকল্পনার ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে।


একটি পরিকল্পনা নেওয়ার আগে তাই পরিবারের—

  • সদস্যসংখ্যা
  • প্রত্যেকের বয়স
  • বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
  • আগে থেকে থাকা রোগ
  • ভবিষ্যতের চিকিৎসার সম্ভাবনা

এসব বিবেচনা করুন।




২. কত টাকার স্বাস্থ্যসুরক্ষা দরকার?


এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি। আজকের দিনে বড় শহরের ভালো হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসায় কয়েক লক্ষ টাকা সহজেই খরচ হতে পারে। তাই খুব কম সুরক্ষার পরিমাণ বেছে নিয়ে শুধু কিস্তি কম রাখার চেষ্টা করা দীর্ঘমেয়াদে বিপজ্জনক হতে পারে।

সুরক্ষার পরিমাণ নির্ধারণের সময় দেখুন—

পরিবারের সদস্য যত বেশি → সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যয় যত বেশি → প্রয়োজনীয় সুরক্ষাও তত বেশি।
এছাড়া ভবিষ্যতে চিকিৎসার খরচ বাড়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে বেশি সুরক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত পুনর্বহাল সুবিধা রয়েছে কি না সেটিও যাচাই করুন।



৩. হাসপাতালের কক্ষের খরচের নিয়ম দেখুন 

স্বাস্থ্যবিমায় কক্ষ ভাড়ার সীমা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ধরনের কক্ষ পর্যন্ত খরচ দেওয়া হয়, আবার কোনো পরিকল্পনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে।

কক্ষ ভাড়ার সীমা কম হলে উন্নত কক্ষ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতে পারে। তাই বিমা নেওয়ার আগে জানতে হবে—

কক্ষ ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা কত? এবং সেই সীমার সঙ্গে অন্যান্য হাসপাতাল খরচের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কি না।




৪. আগে থেকে থাকা রোগের অপেক্ষার সময় বুঝুন


বিমা নেওয়ার সময় আপনার বা পরিবারের কোনো সদস্যের আগে থেকেই থাকা রোগ থাকলে তা অবশ্যই সঠিকভাবে জানাতে হবে।

অনেক স্বাস্থ্যবিমায় এমন রোগের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট অপেক্ষার সময় থাকে। পুস্তিকাটিতে পূর্ববিদ্যমান রোগের ক্ষেত্রে ৩৬ মাস পর্যন্ত অপেক্ষার সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই বিমা কেনার আগে লিখিতভাবে জেনে নিন—

  • কোন রোগকে পূর্ববিদ্যমান রোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে
  • কতদিন অপেক্ষা করতে হবে
  • কোন কোন চিকিৎসা ওই সময়ে বাদ থাকবে
  • পুরোনো বিমা থেকে স্থানান্তর করলে আগের সুরক্ষার সুবিধা কতটা গণ্য হবে



৫. নির্দিষ্ট রোগের অপেক্ষার সময় খেয়াল করুন

শুধু পূর্ববিদ্যমান রোগ নয়, কিছু নির্দিষ্ট রোগ বা অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রেও আলাদা অপেক্ষার সময় থাকতে পারে।

পুস্তিকায় নির্দিষ্ট রোগ বা চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য ২৪ মাসের অপেক্ষার সময় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই বিমার কাগজে থাকা অপেক্ষার সময়ের তালিকা না পড়ে কখনও সিদ্ধান্ত নেবেন না।



৬. প্রথম দিনের অপেক্ষার নিয়ম বুঝুন 

নতুন স্বাস্থ্যবিমা নেওয়ার পর সাধারণ অসুস্থতার চিকিৎসার ক্ষেত্রেও অনেক পরিকল্পনায় প্রাথমিক অপেক্ষার সময় থাকে। প্রদত্ত পরিকল্পনার তথ্য অনুযায়ী সাধারণ অসুস্থতার জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ দিনের অপেক্ষার সময় রয়েছে।

তবে দুর্ঘটনা বা অন্যান্য বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়ম আলাদা হতে পারে। তাই শুধু মুখে বলা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বিমার লিখিত শর্ত পড়ুন।




৭. হাসপাতালে ভর্তি হলে কী কী খরচ দেওয়া হয়? 

একটি ভালো স্বাস্থ্যবিমার মূল উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালে ভর্তি হলে বড় চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমানো।
পরিকল্পনায় সাধারণত হাসপাতালের কক্ষ, নিবিড় পরিচর্যা, চিকিৎসকের পারিশ্রমিক, অস্ত্রোপচার, নার্সিং এবং চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত অনুমোদিত ব্যয়ের মতো বিষয় থাকতে পারে। প্রদত্ত পুস্তিকাতেও হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যয়ের উল্লেখ রয়েছে।

তবে প্রতিটি পরিকল্পনার সীমা আলাদা হতে পারে। তাই শুধু “হাসপাতালে ভর্তি হলে খরচ দেওয়া হবে” শুনে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।




৮. হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে ও পরে চিকিৎসার খরচ দেখুন 

অনেক চিকিৎসায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ছাড়ার পর ওষুধ, পরীক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

প্রদত্ত পরিকল্পনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগের ৬০ দিন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পরের ৯০ দিনের নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যয়ের সুবিধার কথা রয়েছে।

তবে অন্য পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সময়সীমা আলাদা হতে পারে। তাই তুলনা করার সময় এই বিষয়টি অবশ্যই দেখুন।






৯. একই বছরে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হলে কী হবে? 

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা।
ধরা যাক, পরিবারের একজন সদস্যের চিকিৎসায় বিমার বড় অংশ ব্যবহার হয়ে গেল। এরপর একই বিমা বছরে অন্য একজন সদস্যের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হলো। তখন ব্যবহৃত সুরক্ষা পুনরায় পাওয়া যাবে কি না, সেটি যাচাই করুন।

প্রদত্ত পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে ব্যবহৃত সুরক্ষার পরিমাণ পুনর্বহালের সুবিধা রয়েছে এবং নির্দিষ্ট উচ্চতর সুরক্ষা সীমায় এটি সীমাহীন সংখ্যকবার প্রযোজ্য হতে পারে।

এ ধরনের সুবিধা পারিবারিক ভাসমান বিমায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।





১০. মাতৃত্বের সুবিধা আছে কি না দেখুন

যে পরিবারে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের জন্য মাতৃত্ব সংক্রান্ত সুবিধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিমা নেওয়ার আগে যাচাই করুন—

  • স্বাভাবিক প্রসবের খরচ দেওয়া হয় কি না
  • অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসবের খরচের সীমা কত
  • প্রসব-পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত কি না
  • কতদিন অপেক্ষা করতে হবে
  • সর্বোচ্চ কতবার সুবিধা পাওয়া যাবে
প্রদত্ত পরিকল্পনায় মাতৃত্ব সুবিধার সঙ্গে অপেক্ষার সময় এবং নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার কথা উল্লেখ রয়েছে।




১১. নবজাতকের সুরক্ষা আছে কি? 

সন্তান জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে নবজাতকের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নতুন বাবা-মায়েদের জন্য নবজাতকের চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা অত্যন্ত মূল্যবান।

প্রদত্ত পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট শর্ত ও অপেক্ষার সময় সাপেক্ষে নবজাতকের হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। শিশুর জন্ম বিমার কার্যকর সময়ের মধ্যে হওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমা প্রদানকারীকে জানানোসহ কিছু শর্তও রয়েছে।




১২ .বাড়িতে হাসপাতালে-সমতুল্য চিকিৎসার সুবিধা দেখুন 

কিছু পরিস্থিতিতে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না, অথবা হাসপাতালের শয্যা না পাওয়ার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসা চালাতে হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাড়িতে হাসপাতালে-সমতুল্য চিকিৎসার সুবিধা রয়েছে কি না তা যাচাই করা দরকার। প্রদত্ত পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাড়িতে চিকিৎসার ব্যয়ের সুবিধা রয়েছে, তবে বেশ কিছু রোগ ও শর্ত এর বাইরে রাখা হয়েছে।




১৩. জরুরি পরিবহনের সুবিধা আছে কি? 

জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হতে পারে। তাই রাস্তার মাধ্যমে রোগী পরিবহনের ব্যয় বিমায় অন্তর্ভুক্ত কি না দেখুন।

কিছু উচ্চতর পরিকল্পনায় গুরুতর অবস্থায় আকাশপথে রোগী স্থানান্তরের সুবিধাও থাকতে পারে। প্রদত্ত পরিকল্পনায় নির্দিষ্ট শর্তে এ ধরনের সুবিধার উল্লেখ রয়েছে।




১৪. কোন কোন চিকিৎসা বাদ পড়েছে তা পড়ুন 

বিমা কেনার সময় মানুষ সাধারণত কী কী পাওয়া যাবে তা পড়েন, কিন্তু কী কী পাওয়া যাবে না তা উপেক্ষা করেন। এই ভুলটি করবেন না।

বিমার বাদ দেওয়া বিষয়গুলোর মধ্যে প্রসাধনমূলক চিকিৎসা, প্রমাণহীন চিকিৎসা, নির্দিষ্ট আসক্তি-সংক্রান্ত চিকিৎসা এবং কিছু অন্যান্য পরিস্থিতি থাকতে পারে। প্রদত্ত পুস্তিকাতেও একাধিক সাধারণ বাদ দেওয়া বিষয়ের তালিকা রয়েছে।




১৫. নিজের পকেট থেকে কত টাকা দিতে হবে? 

কিছু পরিকল্পনায় দাবি অনুমোদিত হলেও চিকিৎসার ব্যয়ের একটি অংশ বিমাধারীকেই বহন করতে হয়। এটিকে সহ-অর্থপ্রদান বলা হয়।

কম কিস্তির বিনিময়ে বেশি সহ-অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা থাকলে ভবিষ্যতে বড় চিকিৎসার সময় নিজের অর্থের চাপ বেড়ে যেতে পারে।

তাই শুধু কম কিস্তি নয়, কিস্তি বনাম নিজের বহন করতে হবে এমন ব্যয়ের ভারসাম্য বিচার করুন।




উপসংহার:-

পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবিমা নির্বাচন করার সময় আবেগ বা বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর না করে পরিবারের বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


একটি ভালো পারিবারিক ভাসমান স্বাস্থ্যবিমায় শুধু বড় অঙ্কের সুরক্ষা থাকলেই হবে না। হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসার আগে ও পরে ব্যয়, কক্ষ ভাড়া, নির্দিষ্ট রোগের অপেক্ষার সময়, আগে থেকে থাকা রোগ, মাতৃত্ব, নবজাতক, বাড়িতে চিকিৎসা, নার্সিং সেবা, পুনর্বহাল সুবিধা, দাবি-মুক্ত বোনাস, বাদ দেওয়া চিকিৎসা এবং নিজের বহন করতে হবে এমন ব্যয়—সবকিছু একসঙ্গে বিচার করতে হবে।


সবশেষে একটি বিষয় মনে রাখুন—স্বাস্থ্যবিমা কেনার আসল উদ্দেশ্য হলো অসুস্থতার সময় পরিবারের সঞ্চয়কে বড় আর্থিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করা। তাই আজ একটু বেশি ভেবে সঠিক পরিকল্পনা বেছে নেওয়া ভবিষ্যতে পরিবারের জন্য অনেক বড় আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে।


গুরুত্বপূর্ণ: প্রদত্ত পুস্তিকায় থাকা সুবিধা ও সীমাগুলো নির্দিষ্ট একটি স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার তথ্য। অন্য কোনো পরিকল্পনার ক্ষেত্রে শর্ত, সীমা, অপেক্ষার সময় ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিমার সম্পূর্ণ নথি ও নির্দিষ্ট শর্তাবলি অবশ্যই পড়ে নিন।




Tags

Post a Comment

0 Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Cookie Policy
Ok, Go it!
To Top