🛑ই-শ্রম কার্ড : অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য সরকারি সুরক্ষা ও সুবিধা🛑
ভারতের অসংগঠিত কর্মরত শ্রমিকদের সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্দেশ্যে চালু এই 'ই শ্রম কার্ড'। এটি সরকারি পরিচয় পত্র, যার মাধ্যমে অসংগঠিত শ্রমিকদের একটি জাতীয় ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে তারা বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পেতে পারে।
✍️কারা ই-শ্রম কার্ড করতে পারবেন ?
১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক, যারা অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন, তারা সাধারণত ই-শ্রম কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। যেমন- নির্মাণ শ্রমিক, গৃহকর্মী, রাস্তার হকার, কৃষক, পরিযায়ী শ্রমিক, স্বনিয়ুক্ত ব্যক্তি বা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত শ্রমিক। তবে EPFO, ESIC বা সরকারি অর্থাৎ NPS -এর সদস্যরা সাধারণত এই নিবন্ধের আওতায় পড়েন না।
✍️ই-শ্রম কার্ডের কী কী সুবিধা রয়েছে?
ই-শ্রম কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য কর্মীরা বিভিন্ন সরকারি কল্যাণ মূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। উল্লেখযোগ্য প্রধান মন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা (PMSBY) এর মাধ্যমে দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু বা সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ এবং আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা সুরক্ষার সুবিধা পান।
এছাড়াও যোগ্য কর্মী PM-SYM এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ বছর বয়সের পর মাসিক পেনশনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। আয়ুষ্মান ভারত, MGNREGA বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মতো সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে ই-শ্রম ব্যবস্থার যোগাযোগ রয়েছে।
ই-শ্রম কার্ডে একটি ১২ সংখ্যার Universal Account Number (UAN) থাকে, এই নম্বরের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকদের তথ্য ও সরকারি সুবিধা ব্যবস্থাপনার কাজ সহজ হয়।
✍️ই-শ্রম কার্ডের উপকার কারা পেতে পারেন?
ই-শ্রম কার্ড মূলত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য তৈরি। যাঁরা কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরি করেন না এবং নিজের শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁরা সাধারণত ই-শ্রমে আবেদনের আওতায় আসতে পারেন।
✍️উপকার পেতে পারেন এমন কয়েকটি শ্রেণি হলো—
👉নির্মাণ শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি
👉গৃহকর্মী ও পরিচারিকা
👉রিকশা/ভ্যানচালক ও অটোচালক
👉দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিক
👉হকার ও রাস্তার ছোট ব্যবসায়ী
👉দর্জি, মুচি, নাপিত ও কারিগর
👉ইটভাটা ও অন্যান্য অসংগঠিত শ্রমিক
👉ডেলিভারি কর্মী ও অন্যান্য গিগ ওয়ার্কার
👉ছোট দোকান বা স্বনিযুক্ত কাজে যুক্ত ব্যক্তি
👉বিভিন্ন ধরনের শ্রমনির্ভর পেশার কর্মী
ই-শ্রম কার্ডে নাম থাকলে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। দুর্ঘটনা, স্বাস্থ্য, পেনশন, বীমা বা অন্যান্য সরকারি সহায়তা প্রকল্পের ক্ষেত্রে যোগ্য হলে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ই-শ্রম কার্ড করলেই সবার জন্য নির্দিষ্ট মাসিক টাকা বা একই ধরনের সুবিধা নিশ্চিত হয় না। কোন ব্যক্তি কোন সুবিধা পাবেন, তা তাঁর বয়স, পেশা, আয়, রাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের যোগ্যতার উপর নির্ভর করে।
✍️কীভাবে আবেদন করবেন?
ই-শ্রম কার্ডের জন্য অনলাইন ই-শ্রম পোর্টালের মাধ্যমে অথবা নিকটবর্তী CSC (Common Service Center) থেকে আবেদন করা যায়। সাধারণত আধার নম্বর, আধার সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর, ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পেশা এবং ব্যাঙ্কের তথ্য প্রয়োজন হয়। যাচাই করণ সফল হলে ১২ সংখ্যার UAN তৈরি হয় এবং ই-শ্রম কার্ড ডাউনলোড করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- ই-শ্রম কার্ডের নিবন্ধনের জন্য কোনো সরকারি আবেদন ফি নেই। তাই অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত যোগ্য শ্রমিকরা সরকারি নিয়ম মেনে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন।
⭐🛑 ই-শ্রম কার্ড নিজে থেকে সব সুবিধা নিশ্চিত করে না, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের নিবন্ধিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ জরুরি হয়। আরও একটি বিষয়, একই পরিবারের একাধিক সদস্য অসংগঠিত শ্রমিক হলে, প্রত্যেকের নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদাভাবে ই-শ্রমে নিবন্ধন করা সম্ভব হতে পারে।


