রেশন কার্ডের ধরন, বাতিলের কারণ ও KYC করার নিয়ম

Sambad Das
0
Ration Card Types, Cancellation Reasons & Easy e-KYC Guide






(toc) #title=(Table of Content)



রেশন কার্ড হলো একটি সরকারি নথি যা ভারতের কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার কর্তৃক যোগ্য পরিবারগুলোকে প্রদান করা হয়।

এই কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোকে 'পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম' বা গণবণ্টন ব্যবস্থার (PDS) মাধ্যমে ভর্তুকিযুক্ত বা সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত মূল্যে খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সংগ্রহের সুবিধা দেওয়া।

উল্লেখ্য, ভারতে রেশন কার্ড ব্যবস্থাটি প্রথম ১৯৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার চালু করেছিল; মূলত তীব্র খাদ্য সংকট এবং 'বাংলার দুর্ভিক্ষ'-এর প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

'জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩' (NFSA)-এর অধীনে, সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন শ্রেণি ও নীতিমালার ভিত্তিতে যোগ্য পরিবারগুলো খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হয়।



রেশন কার্ডের বিভিন্ন ধরন:


রাজ্যভেদে এই শ্রেণিবিভাগ ভিন্ন হতে পারে, তবে NFSA-এর অধীনে সুবিধাভোগীদের পাঁচটি প্রধান শ্রেণি হলো:

১. অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY):


এই শ্রেণিটি ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জন্য নির্ধারিত। প্রতি মাসে পরিবার প্রতি ১৫ কেজি চাল ও ২০ কেজি গম খাদ্য সুবিধা পাওয়া যায়।

২. নন-প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড বা অ-অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবার (NPHH):


এটি এমন পরিবারগুলোকে দেওয়া হয় যাদের আয় দারিদ্র্যসীমার উপরে এবং স্থিতিশীল; এতে নিয়মিত খাদ্য ভর্তুকি পাওয়া যায় না, তবে এটি ভারতীয় নাগরিকদের (যেমন সরকারি কর্মচারী বা উচ্চ আয়ের পরিবার) জন্য একটি সরকারি পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

৩. প্রায়োরিটি হাউসহোল্ড বা অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত পরিবার (PHH):


এর আওতায় কেবল সেই পরিবারগুলোই অন্তর্ভুক্ত থাকে যাদের সংশ্লিষ্ট রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল NFSA-এর অধীনে যোগ্য বলে চিহ্নিত করেছে। প্রতি মাসে পরিবার পিছু ২ কেজি চাল ও ৩ কেজি গম পাওয়া যায়।

৪. RKSY-1:


এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় পরিবারগুলোকে ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়; সাধারণত জনপ্রতি মাসে ৫ কেজি হারে এই সুবিধা পাওয়া যায়।

৫. RKSY-2:


এটি সেই যোগ্য পরিবারগুলোকে মৌলিক খাদ্য নিরাপত্তা প্রদান করে যারা প্রথম শ্রেণির (যেমন AAY বা PHH) অন্তর্ভুক্ত নয়; এতে সাধারণত জনপ্রতি মাসে ২ কেজি হারে ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।



রেশন কার্ড বাতিল হবার প্রধান কারণ:

 
সুবিধাভোগী অযোগ্য বলে বিবেচিত হলে রেশন কার্ড মুছে ফেলা, বাতিল করা বা সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হতে পারে। এর সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভুয়া বা একাধিক (ডুপ্লিকেট) রেশন কার্ড থাকা, ভুল তথ্য প্রদান, সুবিধাভোগীর মৃত্যু, স্থান পরিবর্তন (মাইগ্রেশন), ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন না করা, সরকারি চাকরি পাওয়া অথবা প্রযোজ্য যোগ্যতার শর্তাবলী পূরণে ব্যর্থ হওয়া।



নতুন নিয়মাবলী এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC):


নিরবচ্ছিন্নভাবে রেশন সুবিধা পেতে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার পদ্ধতি—


১) সুবিধাভোগীর রেশন কার্ড ও আধার কার্ড নিয়ে নিকটস্থ ফেয়ার প্রাইস শপ বা রেশন দোকানে যান।

২) ডিলারের কাছে রেশন কার্ডের তথ্য প্রদান করুন।

৩) ডিলার ই-পিওএস (e-POS) মেশিনের মাধ্যমে সেই তথ্য নথিভুক্ত বা যাচাই করবেন।

৪) এরপর সুবিধাভোগীর আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই (authentication) করা হবে; সাধারণত আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো উপলব্ধ বায়োমেট্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে এই যাচাইকরণ সম্পন্ন হয়।

৫) পরিবারের প্রতিটি যোগ্য সদস্যকে আলাদাভাবে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে হতে পারে।

৬) সফলভাবে পরিচয় যাচাইয়ের পর সিস্টেমে ই-কেওয়াইসি-র স্ট্যাটাস বা অবস্থা update হয়ে যাবে।

৭) যদি পরিচয় যাচাই ব্যর্থ হয়, তবে আধার কার্ডের তথ্য রেশন কার্ডের সাথে সঠিকভাবে যুক্ত (linked) আছে কি না তা পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে তা Update করুন।

৮) রেশন পরিষেবা পেতে কোনো রকম ব্যাঘাত এড়াতে সরকারি সময়সীমার মধ্যেই ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




নতুন রেশন কার্ডের জন্য আবেদন:


আবেদনকারী পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর অথবা ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি পোর্টালের মাধ্যমে নতুন রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীদের পরিবারের বিবরণ, ঠিকানা, আয়ের তথ্য, আধার (ভারতীয় বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ নম্বর) এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদান করতে হবে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর, আপনার আবেদনের নম্বরটি সংরক্ষণ করুন এবং আবেদনের বর্তমান অবস্থা ও অনুমোদনের ফলাফল যাচাই করে দেখুন।




Tags

Post a Comment

0 Comments
Post a Comment (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Cookie Policy
Ok, Go it!
To Top