পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের পক্ষ থেকে জন্ম ও মৃত্যুর প্রমাণপত্র সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট : https://janma-mrityutathya.wb.gov.in/
অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম সার্টিফিকেট আবেদনের প্রক্রিয়া :
১. পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের জন্ম-মৃত্যু তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ডানদিকে উপরে ৩টি লাইনে ক্লিক করুন। সেখানে 'নাগরিক সেবা' অপশনটিতে ক্লিক করুন। প্রথম অপশন 'জন্ম' তে ক্লিক করে 'নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন'-এই অপশনটিতে ক্লিক করুন।
৩. এরপর আপনার মোবাইল নম্বরটি দিয়ে 'Get OTP' তে ক্লিক করুন। আপনার নম্বরে একটি OTP যাবে সেটি লিখে 'Submit OTP' তে ক্লিক করুন।
৪. তারপর একটি 'রেজিস্ট্রেশন ফর্ম' আসবে, সেখানে আবেদনের তারিখ ও মোবাইল নম্বর পূরণ করাই থাকবে, আপনি তার নিচে শিশুর জন্ম তারিখটি দিয়ে দেবেন, শিশুর লিঙ্গ 'পুরুষ/মহিলা' সেটি দেবেন, শিশুটির যেই নামকরণ করা হয়েছে সেই নামের প্রথম শব্দটি 'প্রথম নামে' লিখবেন, যদি নামের মধ্যাংশ শব্দ থাকে তাহলে সেটি 'নামের মধ্যাংশ' বক্সে লিখবেন (নাহলে কিছু লেখার দরকার নেই), পরবর্তী বক্সে নামের শেষ শব্দ অর্থাৎ পদবি লিখবেন।
৫. শিশুর জন্মের স্থান পূরণ করুন, শিশুটি হসপিটাল নাকি বাড়িতে জন্ম হয়েছে সেটি নির্বাচন করুন। রাজ্যের নাম, জেলার নাম, গ্রাম নাকি শহর, ব্লক বা মিউনিসিপ্যালিটি, পঞ্চায়েত, হাসপাতালটি সরকারি নাকি প্রাইভেট, হাসপাতালের নাম এই সমস্ত সঠিক ভাবে পূরণ করুন।
৬. শিশুর পিতার তথ্য বক্সে পিতার প্রথম নাম, পিতার মধ্যাংশ নাম (যদি থাকে), পিতার নামের শেষাংশ অর্থাৎ পদবি, ইমেল আইডি, মোবাইল নম্বর, পিতার একটি সরকারি পরিচয় পত্র (আধার/ভোটার/রেশন কার্ড) সিলেক্ট করে সেই কার্ডের নম্বরটি লিখুন, সেই নথির উভয় দিকের ফটো তুলে পিডিএফ বানিয়ে আপলোড করুন।
৭. শিশুর মাতার তথ্য বক্সে মাতার প্রথম নাম, নামের মধ্যাংশ (যদি থাকে), নামের শেষাংশ অর্থাৎ পদবি, ইমেল আইডি, মোবাইল নম্বর, একটি সরকারি পরিচয় পত্র, সেই নথির নম্বর ও ফটো আপলোড করুন।
৮. শিশুর জন্মের সময় মাতার ঠিকানা বক্সে মাতার বাড়ীর নাম ও নম্বর, ফ্ল্যাটের নম্বর, রাস্তার নাম, পোস্ট অফিসের নাম, পিন কোড, রাজ্যের নাম, জেলার নাম, শহর নাকি গ্রাম, ব্লক বা মিউনিসিপ্যালিটি, পঞ্চায়েত, শহর বা গ্রামের নাম সমস্ত তথ্য পূরণ করুন।
৯. মাতার স্থায়ী ঠিকানা যদি শিশুর জন্মের সময় মাতার ঠিকানা একই হয় তাহলে 'স্থায়ী ঠিকানা উপরের ঠিকানার সাথে একই কিনা অনুগ্রহ করে মিলিয়ে নিন এবং চেক বক্সে ক্লিক করুন'-এই কথাটির আগে একটি বক্স থাকবে সেখানে ক্লিক করে টিক চিহ্ন দিন। যদি দুটি ঠিকানা আলাদা হয়ে থাকে তাহলে মাতার স্থায়ী ঠিকানাটি পূরণ করুন।
১০. পরিসংখ্যানগত তথ্য বক্সে পিতা ও মাতার তথ্য ধর্ম লিখুন, পিতার শিক্ষাগত যোগ্যতা, পিতার পেশা, মাতার শিক্ষাগত যোগ্যতা, মাতার পেশা সিলেক্ট করে পূরণ করুন।
অন্যান্য তথ্যে প্রথম বিবাহের সময় মাতার বয়স, প্রথম বিবাহের সময় পিতার বয়স, প্রসবকালীন পরিচর্যা, প্রসবের পদ্ধতি, এই সন্তান সহ মাতার জীবিত প্রসূত সন্তানের সংখ্যা, জন্মের সময় শিশুর ওজন, গর্ভের স্থিতিকাল সপ্তাহ, সমস্ত তথ্য পূরণ করুন ও হাসপাতাল থেকে ডিসার্জের কাগজটি আপলোড করে সাবমিট করুন। এরপর উপরে সাবমিট কনফার্ম করার জন্য 'ওকে'-তে ক্লিক করে আবেদনটি জমা করুন।
আবেদনটি জমা হলে একটি সাবমিটেড সাকসেসফুল লেখা আসবে ও একটি অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর থাকবে, অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বরটি মোবাইলে মেসেজ যাবে, এই নম্বরটি যত্ন করে রাখুন পরবর্তীকালে এই নম্বরটি দিয়ে আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন ও জন্ম সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।
অনলাইনের মাধ্যমে মৃত্যু সার্টিফিকেট আবেদনের প্রক্রিয়া:
১. পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের জন্ম-মৃত্যু তথ্য অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. ডানদিকে উপরে ৩টি লাইনে ক্লিক করে 'নাগরিক সেবা' অপশনটিতে ক্লিক করুন। দ্বিতীয় অপশন 'মৃত্যু' তে ক্লিক করে 'নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন'-এই অপশনটিতে ক্লিক করুন।
৩. আপনার মোবাইল নম্বরটি লিখুন ও 'Get OTP' তে ক্লিক করুন, আপনার নম্বরে একটি OTP যাবে সেটি লিখে 'Submit OTP' তে ক্লিক করুন।
৪. একটি ফর্ম ওপেন হবে, সর্বপ্রথম আপনার সাথে মৃত ব্যক্তির কি সম্পর্ক সেটি 'মৃত ব্যক্তির সাথে আবেদনকারির সম্পর্ক' বক্সে লিখুন।
৫. মৃতের তথ্য বক্সে মৃত্যুর তারিখ লিখুন, ব্যক্তির লিঙ্গ, বয়স বছর সিলেক্ট করুন, বয়স লিখুন, প্রথম নাম, নামের মধ্যাংশ (যদি থাকে), নামের শেষাংশ পদবি, সরকারি পরিচয় পত্র, পরিচয় পত্রের নম্বর, পরিচয় পত্রের উভয় দিকের ফটো যুক্ত করুন।
৬. মৃত্যুবরণের স্থান বক্সে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর স্থান হাসপাতাল নাকি বাড়ীতে সেটি লিখুন, এরপর রাজ্যের নাম, জেলার নাম, গ্রাম বা শহর, ব্লক বা পৌরসভা, পঞ্চায়েত, পিনকোড লিখে পূরণ করুন।
৭. মাতার তথ্য বক্সে মৃত ব্যক্তির মাতার প্রথম নাম, নামের মধ্যাংশ (যদি থাকে), নামের শেষাংশ পদবি, ইমেল-আইডি, মোবাইল নম্বর, সরকারি পরিচয় পত্রের ধরন, পরিচয় পত্রের নম্বর, সেই নথির উভয় দিকের ফটো যুক্ত করে পূরণ করুন।
৮. পিতার তথ্য বক্সে মৃত ব্যক্তির পিতার প্রথম নাম, নামের মধ্যাংশ (যদি থাকে), নামের শেষাংশ পদবি, ইমেল আইডি, মোবাইল নম্বর, সরকারি পরিচয় পত্রের ধরন, পরিচয়পত্রের নম্বর ও উভয় দিকের ফটো যুক্ত করে পূরণ করুন।
৯. দাম্পত্যের তথ্য বক্সে মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর প্রথম নাম, নামের মধ্যাংশ (যদি থাকে), নামের শেষাংশ পদবি, ইমেল-আইডি, মোবাইল নম্বর, সরকারি পরিচয় পত্রের ধরন, পরিচয় পত্রের নম্বর, পরিচয় পত্রের উভয় দিকের ফটো যুক্ত করে পূরণ করুন।
১০. মৃত্যুর সময় মৃতের ঠিকানা বক্সে মৃত ব্যক্তির বাড়ীর নাম ও নম্বর, গৃহ নম্বর, রাস্তার নাম, পোস্ট অফিস, রাজ্য, জেলা, গ্রাম বা শহর, ব্লক বা পৌরসভা, পঞ্চায়েত, জায়গার নাম, পিনকোড লিখে পূরণ করুন।
১১. মৃতের স্থায়ী ঠিকানা যদি মৃত্যুর সময় ঠিকানা একই হয় তাহলে সেটি লিখুন, যদি আলাদা হয় তাহলে বর্তমান স্থায়ী ঠিকানাটি পূরণ করুন।
১২. মৃতের তথ্য বক্সে মৃত ব্যক্তির ধর্ম ও পেশা সিলেক্ট করুন, 'Remarks'-এ মৃত্যুর কারণটি সিলেক্ট করুন।
১৩. ডাক্তারের দেওয়া মৃত্যু সার্টিফিকেট ও ক্রিমেশন বা ব্যুরিয়াল সার্টিফিকেট-এর উভয় দিকের ফটো আপলোড করুন। 'Submit'-এ ক্লিক করুন, উপরের পপ-আপ বক্সে 'ওকে'-তে ক্লিক করুন।
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি করার পর সাবমিটেড সাকসেসফুল লেখা আসবে ও একটি অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর আসবে এবং আপনার মোবাইলে সেই অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বরটি মেসেজে যাবে।
সেই অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বরটি যত্ন করে রাখুন, পরবর্তীকালে সেই নম্বরটি দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন ও মৃত্যু সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন।


