পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার পড়ুয়া প্রতি বছর যে খবরটার অপেক্ষায় থাকেন, সেটা অবশেষে এসে গেছে OASIS Scholarship 2026-27-এর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। যাঁরা SC, ST বা OBC সম্প্রদায়ের অন্তর্গত এবং পড়াশোনার খরচ নিয়ে একটু হলেও দুশ্চিন্তায় থাকেন, তাঁদের জন্য এই স্কলারশিপটা সত্যিই অনেকটা স্বস্তির।
স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী প্রায় সব স্তরের শিক্ষার্থীর জন্যই এখানে কিছু না কিছু সুযোগ রয়েছে। যাঁরা এখনও স্কুলে পড়ছেন তাঁদের জন্য Pre-Matric ক্যাটাগরি, আর যাঁরা মাধ্যমিক পাশ করে এগিয়েছেন, তাঁদের জন্য Post-Matric ক্যাটাগরি এভাবেই ভাগ করা আছে গোটা প্রক্রিয়াটা।
OASIS Scholarship কারা আবেদন করতে পারবেন:
সহজ কথায় বললে, পশ্চিমবঙ্গের SC, ST এবং OBC পরিবারের ছেলেমেয়েরা এই স্কলারশিপের জন্য যোগ্য। তবে একটা কথা মাথায় রাখা দরকার প্রতিটা ক্যাটাগরির জন্য যোগ্যতার শর্ত এক নয়। পরিবারের আয়, আপনি কোন শ্রেণিতে পড়ছেন, আগের পরীক্ষায় কেমন ফল করেছেন এসব কিছুর উপর নির্ভর করে আপনি কোন ক্যাটাগরিতে পড়ছেন। তাই আবেদন করার আগে নিজের ক্যাটাগরিটা ভালো করে যাচাই করে নেওয়া দরকার, নইলে পরে ঝামেলা হতে পারে।
OASIS Scholarship আবেদনের জন্য কী কী নথি প্রয়োজন:
আবেদন শুরু করার আগে কিছু জিনিস গুছিয়ে রাখলে সময় বাঁচবে। যেমন -
জাতিগত শংসাপত্র
আয়ের শংসাপত্র
আধার কার্ড
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
আগের ক্লাসের মার্কশিট
স্কুল বা কলেজের প্রয়োজনীয় তথ্য
এর মধ্যে ব্যাঙ্কের তথ্যটা নিয়ে একটু বাড়তি সতর্ক থাকা ভালো। নাম বা অ্যাকাউন্ট নম্বরে ছোট্ট একটা ভুল হলেও পরে টাকা পেতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে, তাই এই অংশটা দু-তিনবার মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
OASIS Scholarship আবেদনের পদ্ধতি:
গোটা প্রক্রিয়াটা মোটামুটি সহজ, তবে ধৈর্য ধরে করতে হবে। প্রথমে OASIS-এর অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিয়ে রেজিস্ট্রেশন শুরু করতে হবে। তারপর ব্যক্তিগত ও শিক্ষাগত তথ্য পূরণ করে, জাতিগত শংসাপত্র, আয় সংক্রান্ত তথ্য আর ব্যাঙ্কের বিবরণ ঠিকঠাক দিয়ে প্রয়োজনীয় নথিগুলো আপলোড করতে হবে। সব শেষে আরেকবার পুরো ফর্মটা চোখ বুলিয়ে নিয়ে সাবমিট করলেই কাজ শেষ।
আবেদন সাবমিট করার পর যে application number বা acknowledgement আসবে, সেটা কোথাও লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রেখে দিন। পরে আবেদনের status জানতে এটাই কাজে লাগবে।
OASIS Scholarship কিছু সাবধানতা জরুরি তথ্য:
তাড়াহুড়ো করে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে অনেকেই নাম, জন্মতারিখ বা caste certificate-এর তথ্যে ছোটখাটো ভুল করে ফেলেন। এসব একবার নয়, দু-তিনবার মিলিয়ে নেওয়াই ভালো। আর সবচেয়ে জরুরি কথা শুধু সরকারি বা অফিসিয়াল পোর্টাল থেকেই আবেদন করুন। কেউ যদি ফোন বা মেসেজ করে OTP, পাসওয়ার্ড বা ব্যাঙ্কের তথ্য চায়, একদম দেবেন না।
OASIS Scholarship 2026-27-এ কত টাকা পাওয়া যাবে:
OASIS Scholarship-এর মাধ্যমে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা পড়ুয়ার category, course এবং scholarship-এর ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। Pre-Matric এবং Post-Matric পড়ুয়াদের জন্য ভাতার পরিমাণও এক নয়। তাই আবেদন করার আগে নিজের SC, ST বা OBC category, কোন শ্রেণি বা course-এ পড়ছেন এবং hostel/Day Scholar status অনুযায়ী প্রযোজ্য scholarship amount দেখে নেওয়া জরুরি।
স্কলারশিপের টাকা সাধারণত যোগ্য পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হয়। তবে টাকা পাওয়ার আগে আবেদন যাচাই, document verification এবং অন্যান্য সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
OASIS Scholarship গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা:
OASIS Scholarship আসলে সেই পড়ুয়াদের জন্য একটা বড় ভরসার জায়গা, যাঁরা আর্থিক কারণে পড়াশোনা থামিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য হন। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে মানে সময় নষ্ট না করে এখনই নথিপত্র গুছিয়ে ফেলার সময়। তবে জমা দেওয়ার আগে সেই বছরের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি আর শেষ তারিখ একবার অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে নিজে চোখে দেখে নেবেন এটুকু সতর্কতা আপনার আবেদনটাকে ঝামেলামুক্ত রাখবে।

.webp)
