মাথার উপর নিজের একটা মজবুত পাকা ছাদ থাকবে - এই স্বপ্নটা আমাদের সবারই থাকে। কিন্তু আজকাল ইট বালি সিমেন্টের যা আগুন দাম তাতে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে খরচা করে বাড়ি বানানো টা বেশ কঠিন।
এই কঠিন কাজটাকেই জলের মতো সহজ করতে ভারত সরকার নিয়ে এসেছে 'প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা' (PMAY)।
এই প্রকল্পে সরকার আপনাকে বাড়ি বানানোর জন্য সরাসরি টাকা দেয় অথবা ব্যাংক লোনের সুদে বিশাল ছাড় দেয়। আপনি যদি এখনো কাঁচা বাড়িতে থাকেন, তবে এই যোজনাটি আপনার জন্যই। আসুন, কোনো ঘোরপ্যাঁচ ছাড়াই একদম সহজ ভাষায় জেনে নিই এই প্রকল্পের এ-টু-জেড নিয়মকানুন।
আবাস যোজনা কয় প্রকার ?
এই যোজনাটিকে মূলত দুটো ভাগে ভাগ করা হয়েছে :
১. PMAY-G (গ্রামীণ): গ্রামের মানুষদের জন্য।
২. PMAY-U (আরবান বা শহর): শহর বা মিউনিসিপ্যালিটি এলাকার মানুষদের জন্য।
সরকার থেকে কত টাকা সাহায্য পাওয়া যায়:
শহর এবং গ্রামের জন্য টাকার অঙ্কটা একটু আলাদা-
গ্রামের ক্ষেত্রে: আপনি যদি গ্রামে বাড়ি বানান , তাহলে সরকার আপনাকে সরাসরি এক লাখ কুড়ি হাজার টাকা দেয়। পাহাড়ি বা দুর্গম এলাকা হলে সেটা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা হয়। এই টাকাটা একেবারে নয়, বাড়ি তৈরীর কাজ এগুলোর সাথে সাথে তিনটি কিস্তিতে সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে ঢুকে এর সাথে ১০০ দিনের কাজের মজুরি এবং শৌচালয় বানানোর জন্য স্বচ্ছ ভারত মিশন থেকে আরও বারো হাজার টাকা পাওয়া যায়।
শহরের ক্ষেত্রে: শহরে বাড়ি তৈরি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য আপনি যদি ব্যাংকের লোন নেন তবে সরকার সেই লোন এর সুদের ওপর ২.৬৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি বা সাবসিডি দেয় অর্থাৎ আপনার লোনের বোঝা অনেকটাই কমে যায়
আবাস যোজনা কারা সুবিধা পাবেন:
১. পাকা বাড়ি থাকা চলবে না: আবেদনকারী বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সারা ভারতের কোথাও কোন পাকা বাড়ি থাকা চলবে না।
২. মহিলাদের অগ্রাধিকার: এই প্রকল্পে সরকার মহিলাদের বাড়ির মালিকানা দিতে বেশি পছন্দ করে। তাই পরিবারের কোন মহিলাদের নামে আবেদন করলে সুবিধা আগে পাওয়া যায়।
৩. বার্ষিক আয়ের হিসাব : আপনার পরিবারের বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করে ক্যাটাগরি ঠিক হয় (EWS, LIG, MIG)। সাধারণত বার্ষিক আয় ৩ লাখ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে থাকলে এই সুবিধা পাওয়া যায়।
কি কি ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র প্রয়োজনঃ
আবেদন করার আগে নিম্নলিখিত এই কাগজগুলো হাতের কাছে রেডি রাখুন :
১. পরিবারের সবার আধার কার্ড এবং প্যান কার্ড ।
২. যার নামে আবেদন হবে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাস বই ।
৩. জমির সঠিক কাগজ (পরচা বা দলিল)।
৪. গ্রাম পঞ্চায়েত বা পৌরসভা থেকে নেওয়া আয়ের শংসাপত্র ।
৫. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
আবাস যোজনায় আবেদন করার পদ্ধতিঃ
অফলাইন পদ্ধতিঃ সবচেয়ে সহজ আপনি যদি গ্রামের বাসিন্দা হন, তবে সরাসরি আপনার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বা বিডিও (BDO) অফিসে গিয়ে খোঁজ নিন। আর শহরের বাসিন্দা হলে আপনার এলাকার মিউনিসিপ্যালিটি বা পৌরসভায় গিয়ে ফর্ম সংগ্রহ করুন। সেখানে ফর্ম ফিলাপ করে দরকারী কাগজপত্রের জেরক্স জমা দিয়ে দিন।
অনলাইন পদ্ধতিঃ আপনি চাইলে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে ' pmaymis.gov.in ' ওয়েবসাইটে গিয়েও আবেদন করতে পারেন। নিজে না পারলে বাড়ির কাছের কোনো সিএসসি (CSC) সেন্টারে চলে যান। ওরা সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে আপনার ফর্ম অনলাইনে সাবমিট করে দেবে।
আবাস যোজনায় আপনার নাম চেক করুনঃ
আপনার আবেদন মঞ্জুর হলো কি না, সেটা জানা খুব সোজা। গ্রামের মানুষেরা পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে 'আবাস প্লাস' (Awaas+) লিস্ট দেখতে পারেন। এছাড়া অনলাইনে নিজের মোবাইল থেকেই PMAY-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে আধার নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করা যায়।
সবশেষে একটা খুব জরুরি কথা ও সাবধানতা
আবাস যোজনার টাকা সরকার কোনো মানুষের হাত দিয়ে পাঠায় না, ডাইরেক্ট আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে। মাঝখানে কোনো দালাল বা তৃতীয় ব্যক্তির জায়গা নেই। তাই "আপনাকে বাড়ির টাকা পাইয়ে দেব" বা "লিস্টে নাম তুলে দেব" বলে কেউ যদি আপনার কাছে কাটমানি বা ঘুষ চায়, তাকে এক পয়সাও দেবেন না। দরকার হলে সোজা বিডিও (BDO) বা এসডিও (SDO) অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করুন। নিজের কাগজ ঠিক থাকলে এবং সত্যিই আপনার কাঁচা বাড়ি হলে, আপনি এমনিতেই বাড়ির টাকা পাবেন।


